ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী মাদরাসার এক ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ)-এর বিচারক শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
রায় প্রদানের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় প্রদানের পর তাদের পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সে তার প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। তবে প্রেমিক না আসায় তার মামাতো ভাই রিয়াজ ব্যাপারীকে (২৪) ফোন করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য। রিয়াজ ব্যাপারী তার দুই বন্ধুর বাসা ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লার সৈয়দ ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে রিয়াদ বাইরে চলে গেলে রিয়াদের দুই বন্ধু সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান ব্যাপারী (৩১) ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ওই মেয়ের মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন, ওসমান ও রিয়াদকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এ রায়ে দেশে নারী নির্যাতনসহ অপরাধের মাত্রা কমে আসবে। এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আসামিরা বুঝতে পারবে, অপরাধ করে পালানোর উপায় নেই।
জহির হোসেন/এসএইচএ
