বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে চিকিৎসকদের থ্রি ‘এ’ মেনে চলার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হাসপাতালে চিকিৎসকদের থ্রি ‘এ’ মেনে চলার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থ্রি ‘এ’ অর্থাৎ অ্যাটেনডেন্স, অ্যাটেনশন, অ্যাটিচিউড মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এই তিনটা যেন আপনারা ফলো করেন। অ্যাটেনডেন্সটা রেগুলার করতে হবে। অ্যাটেনশান দিতে হবে জনসেবায়, আর অ্যাটিচিউড মানে ব্যবহার ভালো করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ পরামর্শ দেন তিনি। এসময় তিনি হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম, বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সাথে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের একটু হাসি একজন রোগীকে অনেক ভালো করে তুলবে, মেন্টাল স্ট্রং করে তুলবে। আর আপনারা যদি মুখ গোমরা করে কথা বলেন, তখন নার্ভাস হয়ে যাবে, আমি নিজেও নার্ভাস হয়ে যাব।

এ সময় তিনি হাসপাতালের ওষুধপত্র সঠিক ও নিয়মিত সরবরাহের তাগিদ দিয়ে বলেন, আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ আমাদের ওষুধপত্র যা আছে, আপনারা সঠিকভাবে সরবরাহ করবেন। আপনারা সময় ধরে ঠিকমতো আসবেন। রোগীদেরকে বেস্ট সার্ভিস দেবেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শন করে খুব ভালো মনে হয়েছে, রোগীদের সাথে আলাপ করেছি, তারা ভালো সেবা পাচ্ছে। কিন্তু একটু অভজারভেশন আছে, রেগুলারিটি মেইনটেন হচ্ছে না। এটা দায়িত্বে অবহেলাতে পড়ে, কিন্তু কোন দুর্নীতি নয়। যেমন এখানে ইনজেকশন থাকার কথা, কিন্তু বাহিরে থেকে কেনা হয়েছে। এটা অনেক আগেই সেলে দিয়েছে, সুপারের উচিত ছিল ওখানে তাগিদ দিয়ে ওষুধটা আনা। কারণ ওষুধটা অনেক দামী, গরিব মানুষ কিনতে গেলে কষ্ট হয়। আর আমি সেলেও আলাপ করলাম, তারাও দিতে দেরি করেছে, আমি এটা ধরেছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস ইউনিট ও শয্যা বাড়ানোসহ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হবে।

জয়পুরহাটে বহুপ্রতীক্ষিত মেডিকেল কলেজ চালু প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যত তাড়াতারি শিক্ষকদের ব্যবস্থা করা যাবে, তত তাড়াতারি মেডিকেল কলেজ করা হবে। এদিকে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট শিগগিরই চালু হবে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস) যান, যেটি প্রস্তাবিত জয়পুরহাট মেডিকেল কলেজের স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। স্থানটি পরিদর্শন করে মন্ত্রী এর পরিবেশ ও উপযোগিতাকে চমৎকার বলে অভিহিত করেন। এরপর তিনি কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া, জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চম্পক কুমার/এসএইচএ