বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী অপহরণ মামলায় আসামির ২ দিনের রিমান্ড

ব্যবসায়ী অপহরণ মামলায় আসামির ২ দিনের রিমান্ড

নরসিংদী আদালত চত্বর থেকে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় কামাল সরকারের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।

কামাল সরকার (৪৯) হাজিপুর চকপাড়া এলাকার সামাদ সরকারের ছেলে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ মাধবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে এ মামলায় ইনসান মিয়া (৪০) ও শরিফ মিয়া (৩৮) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা নরসিংদীর আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য মাসুদ রানা বাবুল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বিল গোবিন্দপুর এলাকার সালাম তালুকদারের ছেলে ব্যবসায়ী লিখন তালুকদার (৩৫) একটি চেকের মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার পর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাসুদ রানা বাবুল, কামাল সরকারসহ অন্যরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে লিখনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রীকে ফোনের লাইনে রেখে মারধরের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখন তালুকদার নরসিংদী মডেল থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিক জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে এই মামলায় ইনসান মিয়া (৪০) ও শরিফ মিয়া নামে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে মামলার এজাহারে নাম থাকা নরসিংদীর আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুল এখনো গ্রেপ্তার হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাসুদ রানা বাবুলের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, নরসিংদীতে অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুলের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ ও আইডি ব্যবহার করে বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১২ সাল থেকে তার নেতৃত্বে নরসিংদীতে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রটির কথিত নারী সদস্যরা প্রথমে মেসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিডিও কল ও কথোপকথনের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে সেসব তথ্য বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে তার পরিচালিত ফেসবুক পেজগুলোতে মানহানিকর প্রচারণা ও চরিত্রহনন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। টাকা আদায়ের মেসেজে চক্রটির দাবি, আদায়কৃত অর্থের ৭০ শতাংশ কথিত নারী প্রধান এবং ৩০ শতাংশ মাসুদ রানা বাবুল গ্রহণ করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি করা অর্থ না দিলে চক্রটি পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে মানহানিকর প্রচারণা চালানো হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা বাবুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমিনুর রহমান সাদী/এমএমবি

বিজ্ঞাপন