বগুড়া সদর উপজেলায় সাইফুল ইসলাম (৫৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নুনগোলা ইউনিয়নের বাঘোপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এবং দুইবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে সাইফুল ইসলাম বাঘোপাড়া বন্দর মোড় এলাকায় চা পান করতে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় রমজান ও নিঝুম নামে দুইজন তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব মিয়া বলেন, আমরা বন্দর মোড় থেকে চা খেয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলাম। রমজান ও নিঝুম রাস্তায় ওঁত পেতে ছিল। তারা প্রথমে আমাদের ধাক্কা দেয়। এরপর দুজন দা দিয়ে সাইফুলকে কোপাতে থাকে। এ সময় তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, কারও নাম বললে আমাকেও হত্যা করবে। পরে আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই।
নিহতের ভাতিজি মোছা. শারমিন খাতুন বলেন, আমার চাচা দুইবারের মেম্বার ছিলেন। বিভিন্ন সময় সালিশ বৈঠক করতেন। এ কারণে কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে। কিন্তু এভাবে একজন মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই পরিবারের নিরাপত্তা চাই এবং হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে সাইফুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পাই। তার শরীরে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আমরা ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু তথ্য এসেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। নিহত সাইফুল ইসলাম সাবেক ইউপি সদস্য এবং দুইবারের মেম্বার ছিলেন। তার রাজনৈতিক কোনো মতাদর্শ থাকলেও থাকতে পারে। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি সেভাবে বলছেন না। তিনি যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই থাকুন না কেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া স্বাভাবিক। এখানে দলীয় পরিচয় কোনো বিষয় নয়।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আব্দুল মোমিন/এমটিআই
