চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কাভার্ড ভ্যানের গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩৩০ কেজি চুল ছিনতাইয়ের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে কাভার্ড ভ্যানের চালক ও ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে ছিনতাই হওয়া ২৩ বস্তা চুল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া ২৩ বস্তা চুল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন, চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলা কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বকুল হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৭) ও একই উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন সান্টু (৩৯)। রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে ২৩ বস্তায় প্রায় ৩৩০ কেজি চুল ক্রয় করেন। পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য চুলগুলো চুয়াডাঙ্গায় আনা হয়। পরে সমিতির নিজস্ব কাভার্ড ভ্যানে করে চুলের বস্তাগুলো দামুড়হুদা থানাধীন কার্পাসডাঙ্গা এলাকার একটি প্রসেসিং কারখানায় নেওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে শনিবার দুপুরে কাভার্ড ভ্যানটি দামুড়হুদার কোষাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি এর গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা চালক ও সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করে কাভার্ড ভ্যানে থাকা ২৩ বস্তা চুল নিয়ে পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ জানায়, ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিমকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযানে নামে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানের চালক ও ম্যানেজারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া ২৩ বস্তা চুল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আফজালুল হক/এমটিআই
