বিজ্ঞাপন

এক ছেলে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি, আরেকজন পারেনি যেতে

ছেলেদের বিদেশ পাঠাতে ধারদেনা, ঋণের চাপে নিজেকে শেষ করে দিলেন মা

ছেলেদের বিদেশ পাঠাতে ধারদেনা, ঋণের চাপে নিজেকে শেষ করে দিলেন মা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছেলেদের বিদেশ পাঠাতে বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা নেওয়ার পর তা পরিশোধের চাপে হনুফা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হনুফা বেগম ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার রিকশা গ্যারেজের মেকানিক আক্রাম হোসেনের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ তাদের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হনুফা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলে সায়মন ও মেয়ের জামাইকে বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে টাকা দেন তিনি। ছোট ছেলে বিদেশে গিয়ে সুবিধা করতে পারেননি। পরে বড় ছেলে ইমরানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য এক দালালকে টাকা দেন হনুফা। তবে ওই দালাল ইমরানকে বিদেশে পাঠাতে পারেননি। দেওয়া টাকাও ফেরত না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি।

এরমধ্যে বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে। গত কয়েক দিন ধরে টাকা ধার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন হনুফা।

নিহতের ভাই জামাল মিয়া বলেন, রোববার ভোরে হনুফা তার স্বামীর সঙ্গে টাকা ধার করার জন্য বের হন। বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে পারেননি। পরে বাড়িতে ফিরে নিজ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর তাকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

জামাল মিয়া আরও বলেন, বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায় সাত-আট লাখ টাকা ধার করেছিলেন হনুফা। এসব টাকা পরিশোধের জন্য পাওনাদারদের চাপ ছিল। আমরা তাকে চিন্তা না করার জন্য বুঝিয়েছি এবং সহায়তার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন।

ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে হনুফা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঋণের চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/এমটিআই

বিজ্ঞাপন