বিজ্ঞাপন

৩ মাসেও সরেনি ঝড়ে বিদ্যালয় ঘরের ওপর ভেঙে পড়া গাছের ডাল

৩ মাসেও সরেনি ঝড়ে বিদ্যালয় ঘরের ওপর ভেঙে পড়া গাছের ডাল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ভবনের ওপর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া চাম্বল গাছের বিশাল আকৃতির একটি ডাল প্রায় তিন মাসের বেশি সময়েও অপসারণ করা হয়নি। ফলে বিধ্বস্ত ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে ৩৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত ওই বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য একটি সেমিপাকা এবং অপরটি ফ্লাড শেল্টার কাম স্কুল ভবনের তিনতলা একটি ভবন রয়েছে। সেমিপাকা ভবনটিতে চারটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবহৃত হতো। অপরদিকে ফ্লাড শেল্টার কাম স্কুল ভবনটির নিচতলা ফাঁকা এবং দোতলা ও তিনতলায় মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি অফিস কক্ষ হিসেবে এবং বাকি চারটি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৪৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। এ বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মচারী নেই।

সেমিপাকা ভবনের ওপর একটি চাম্বল গাছের বিশাল আকৃতির একটি ডাল ঝড়ে ভেঙে পড়ায় ভবনটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছটির বড় একটি ডাল টিনশেড ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ওই ভবনে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এরপর তিন  মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও গাছটির ভেঙে পড়া ডাল অপসারণ করা হয়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছটি সরকারি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি চাইলেও নিজেদের উদ্যোগে গাছটি সরাতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়া ঘর ও গাছের কারণে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেমিপাকা ঘরটি মেরামতের দাবি জানান তারা।

সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান বলেন, গত মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল ঘরের পেছনে থাকা একটি চাম্বল গাছের বড় একটি ডাল ভেঙে পড়ে। ঘটনার দুই দিন পরই সরকারি বিধি মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি।

তিনি জানান, গাছটির ভেঙে পড়া ডাল সরিয়ে ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে না।

সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, গাছটি ভেঙে পড়ার কয়েকদিন পরই সরকারি বিধি অনুযায়ী বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। আশা করেছিলাম বন বিভাগ দ্রুত সরকারি বিধিমালা মেনে গাছটি অপসারণ করবে।

ফরিদপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার তো এ বিষয়টি জানা নেই। অবশ্য গাছ কাটার জন্য বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। আমাকে খুঁজে দেখতে হবে এর মধ্যে সদরপুরের ওই বিদ্যালয়ের আবেদনটি আছে কি না।

সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বন বিভাগে বিধি অনুযায়ী আবেদনের প্রসঙ্গে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, “আসলে সরকারি পর্যায়ে কোনো গাছ কাটতে হলে তা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আমরা উদ্যোগ নিয়ে থাকি, তবে জরুরি প্রয়োজন মনে হলে উপজেলা পর্যায়ের আবেদন যে বিবেচনা করি না তা নয়।”

জহির হোসেন/আরকে

বিজ্ঞাপন