মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারসংলগ্ন ফটকি নদীর ওপর ১৬ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। তবে সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এখনো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি এটি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি পড়ে আছে অচল অবস্থায়। বাধ্য হয়ে পাশের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার মানুষসহ দূরপাল্লার অসংখ্য যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফটকি নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। মাগুরা সদর অংশের সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেতুর দক্ষিণ পাশে শালিখার আড়পাড়া বাজার অংশে প্রায় ২৩৫ মিটার সংযোগ সড়ক এখনো নির্মাণ করা হয়নি। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে ওই অংশের কাজ আটকে আছে।
নতুন সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও অপর পাশে না থাকায় অনেক সময় স্থানীয় লোকজন ভুল করে সেতুর ওপর উঠে পড়ছেন। পরে অপর প্রান্তে গিয়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সম্প্রতি সেতুর অপর প্রান্তে লাল ফিতা টানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে নতুন সেতু চালু না হওয়ায় পাশের পুরোনো সেতুটিই এখনো যান চলাচলের প্রধান ভরসা। ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মাগুরা-যশোর ও ঢাকা-খুলনাগামী বাসসহ শত শত ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো সেতু ব্যবহার করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ফটকি নদীর ওপর নতুন সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুর মূল অবকাঠামোর পাশাপাশি মাগুরা সদর অংশের সংযোগ সড়কের কাজ ২০২৪ সালে শেষ হয়। তবে শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজার অংশে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সেতুর দক্ষিণ পাশে ২৩৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি চালু হলে মাগুরা, যশোরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে পুরোনো সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে। তাই দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আড়পাড়া বাজারের মুদিদোকানদার অলোক রায় বলেন, আমার প্রায় দুই শতাংশ জমি সেতুর সংযোগ সড়কের মধ্যে পড়েছে। সরকার যদি জমি অধিগ্রহণ করে এবং ন্যায্যমূল্য দেয়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। সেতুটি দ্রুত চালু হলে এলাকার মানুষেরই উপকার হবে।
মনিরুল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সেতু তৈরি হয়েছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ফলে এত টাকা খরচ করে সেতু বানিয়েও আমরা সেটির সুবিধা পাচ্ছি না। পুরোনো সেতু দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা দরকার।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সেতুর মূল অংশ নির্মাণের কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। তবে আড়পাড়া বাজার অংশের জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে না দেওয়ায় ওই অংশের সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
মাগুরা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, সেতুর মূল অবকাঠামো এবং মাগুরা অংশের সংযোগ সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আড়পাড়া অংশের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংযোগ সড়কের কাজও শেষ করা হবে। এরপর সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের জমি অধিগ্রহণ জটিলতা দ্রুত নিরসন করে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। এতে একদিকে ১৬ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ব্যবহার উপযোগী হবে, অন্যদিকে পুরোনো সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলও বন্ধ হবে।
তাছিন জামান/এমএমবি
