বিজ্ঞাপন

এক কোয়ার্টারে ২ বছর ৪ মাস, নতুনটিতেও দেড় বছর ভাড়া দেননি প্রকৌশলী

এক কোয়ার্টারে ২ বছর ৪ মাস, নতুনটিতেও দেড় বছর ভাড়া দেননি প্রকৌশলী

টানা দুই বছরের অধিক সময়ে সরকারি কোয়ার্টারে ভাড়া বাসায় থেকে বকেয়া ৮১ হাজার টাকা পরিশোধ না করেই অন্য উপজেলায় দিব্যি চাকরি করে যাচ্ছেন এক উপজেলা প্রকৌশলী। শুধু তাই নয়, নতুন জায়গায় নতুন সরকারি কোয়ার্টারে অবস্থান করার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানেও ভাড়া বকেয়া রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ ২ বছর ৪ মাস ধরে ভাড়া না পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া পরিশোধের চিঠি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি দাবি আদায় আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক পত্রে।

অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলীর নাম মো. ফিরোজুর রহমান। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী (অ.দা.) হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে চিলমারী উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি উপজেলা পরিষদের ঘাঘট-০১ কোয়ার্টারে অক্টোবর ২০২২ সাল থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২ বছর ৪ মাসের ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যান। অফিস থেকে বারবার তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও বকেয়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে এই পত্র প্রেরণ করা হয়।

গত ২৬ জুলাই প্রেরণকৃত চিঠিতে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বকেয়া ৮১ হাজার টাকা প্রদান করা না হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তাকে একই পদ্ধতিতে গত ১ মার্চ ২০২৫ তারিখ থেকে এলজিইডি কুড়িগ্রাম কমপ্লেক্সে অফিসার্স কোয়ার্টার ৩টি শর্তে ভাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। শর্তগুলো হচ্ছে- সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতি মাসের বাসাভাড়া পরিশোধ করতে হবে, প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে, বাসায় অবস্থানকালে সরকারি সম্পদের কোনো কিছু ক্ষতি সাধিত হলে বা খোয়া গেলে নিজ দায়িত্বে তা পূরণ করতে হবে। কিন্তু নতুন আবাসনে এখন পর্যন্ত দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি।

বিষয়টি জানতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে জানান, আমি চিলমারীতে অবস্থানকালীন সেখানে আরেক অফিসার ছিলেন, তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় ভাড়া সময়মতো পরিশোধ করতে বিলম্ব হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি চিলমারী উপজেলা পরিষদকে জানিয়েছি আমার কাছে এসে টাকা নিয়ে যেতে। তারা না এসে চিঠি ইস্যু করেছে। অপরদিকে কুড়িগ্রাম এলজিইডি কোয়ার্টারে ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়ে তিনি জানান, যেহেতু আমি এখানে এখানও অবস্থান করছি, তাই যেকোনো সময় ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। আমি তো চলে যাচ্ছি না। যেকোনো সময় ভাড়া পরিশোধ করব।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হাসান জানান, ভাড়া বকেয়া রাখায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। আমি মিটিংয়ে আছি তাই বিস্তারিত জানাতে পারছি না।

ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়ে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ভাড়া বকেয়া আছে কিনা আমার জানা নেই। অ্যাকাউন্টস বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানাচ্ছি। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি।

এই অফিসারের এক স্টেশনে ২ বছর ৪ মাস এবং অপর স্টেশনে দেড় বছরসহ মোট ৩ বছর ১০ মাস ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়ে হতবাক সবাই।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন