থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা চালকদের হাতে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বন্ধ থাকা বরিশালের বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। আলোচনা ও বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাসে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে বাসসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে টার্মিনালে আটকা পড়ে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রায় যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মাহিন্দ্রা মালিক-চালকদের বিরোধ চলে আসছে। সোমবার সকালে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
একপর্যায়ে মাহিন্দ্রা মালিক ও চালকরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০টি যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেন বাস শ্রমিকরা। পরে কয়েকটি বাস ভাঙচুর এবং বাসের স্টাফদের মারধরের অভিযোগও ওঠে।
খবর পেয়ে বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমাধান না হওয়ায় নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা বলে জানা গেছে।
প্রথমে বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়। পরে পর্যায়ক্রমে নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ ১৫টি রুট এবং দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটেও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বাস শ্রমিকরা জানান, শিমুলতলা এলাকায় মাহিন্দ্রা চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাস ভাঙচুর ও কয়েকজন স্টাফকে মারধর করেন। পরে বানারীপাড়ার দিকে চলাচলকারী আরও কয়েকটি বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদেই বাস চলাচল বন্ধ করা হয়।
তারা আরও জানায়, থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়ক থেকে থ্রি-হুইলার উচ্ছেদের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী থ্রি-হুইলার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে আটকা পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। অনেকে বিকল্প যানবাহনের খোঁজে টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় অপেক্ষা করতে থাকেন।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, সকালে বানারীপাড়া এলাকায় মাহিন্দ্রা চালকরা সড়কে বাস আটকে দেয়। পরে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। বিকেলে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এবং প্রশাসনের আলোচনার আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তারা আলোচনায় বসতে সম্মতি দিয়েছেন। বর্তমানে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরিফ হোসেন/এসএইচএ
