বিজ্ঞাপন

বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, পেট্রোল বোমার সরঞ্জাম উদ্ধার

বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, পেট্রোল বোমার সরঞ্জাম উদ্ধার

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে চ্যানেল চার্জ আদায় নিয়ে মারধরের  ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এসময় হরিরামপুর থানার পাশে পেট্রোল বোমার সরঞ্জাম (সলতা সহ চারটি কাচের বোতল) ও একটি পটকা বাজি উদ্ধার করে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১২টায় উপজেলা চত্বরে অবস্থান করে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করে হরিরামপুর বালুমহালের ইজারাদার ও ধুলশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বিল্লাল খানের সমর্থক এবং এলাকাবাসী। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুলশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বিল্লাল খানের সমর্থকসহ কয়েকশ মানুষ উপজেলা চত্বর থেকে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি হরিরামপুর থানার দিকে এগিয়ে গেলে মোল্লা শাহিনের সমর্থকরা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। তবে পুলিশ বলছে, এটি পটকা বাজি ফোটানোর শব্দ।

এসময় মিছিলকারীরা মোল্লা শাহিনের সমর্থকদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা চত্বরে ফিরে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা মোল্লা শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোল্লা শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এসময় তারা ‘শাহীন মোল্লার দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ বলে স্লোগান দেন।

অন্যদিকে, একই দিনে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোল্লা শাহিনের নেতৃত্বে বিএনপির অপর পক্ষ হরিরামপুর বালুমহালের ইজারাদার বিল্লাল খানের বিরুদ্ধে পৃথক অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারাও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিল্লাল খানের বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের সমর্থনকারী ও নেতাদের বিরুদ্ধে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এসময় তারা হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোল্লা শাহিনের পক্ষে অবস্থানকারী সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস বলেন, এই মিছিলটা প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী লীগ যারা আছে তাদের থেকে হরিরামপুরকে মুক্ত করা। এটাই ছিল প্রতিপাদ্য বিষয়।

প্রশাসনের কে বা কারা আছে চিহ্নিত করতে পেরেছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আসলে এভাবে ঢালাও করে বলার কিছু নাই। এটা আমরাও জানি ওনারাও জানে কারা কারা আওয়ামী লীগের পারপার্স সার্ভ করছে। প্রশাসনের ইন্ধনে দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা যারা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আছি আমরা চেষ্টা করব অচিরেই বসে শান্তিপূর্ণ সেটেলমেন্ট করে ফেলব। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলাম, ক্ষমতার মধ্যে থাকলে একটু অনৈক্য  একটু মতভেদ, প্রকাশ পায়।

এই অনৈক্য কি ক্ষমতার ভাগাভাগি নাকি অর্থনৈতিক ভাগাভাগি নিয়ে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো সবই আছে, সামনে কমিটি হবে অনেক তারপরে এখানে পদ্মার বিষয় আছে এগুলোই হচ্ছে এই সমস্ত মূল কারণ। 

দুই পক্ষের অবস্থান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর হরিরামপুর থানার সামনে থেকে পেট্রোল বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ককটেল সদৃশ পটকা বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া এসব সরঞ্জামের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, এর আগে পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেডের চ্যানেল চার্জ আদায় নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রতিবাদেই দুই পক্ষ এই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিএনপির দুই পক্ষের এই পৃথক অবস্থান কর্মসূচি, ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন এবং থানার সামনে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে হরিরামপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, দুটি মামলা রুজুর প্রতিবাদে বিএনপির দুই পক্ষই পৃথকভাবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। উভয় পক্ষ নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কর্মসূচি শেষ করে চলে যায় এবং ককটেল বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ওসি আরও জানান, থানা ঘেরাওয়ের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যরা থানার সামনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে।

পেট্রোল বোমা সরঞ্জাম ও ককটেল সদৃশ পটকা বাজি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে ৪টা খালি বোতল রয়েছে। তবে এটাকে পেট্রোল বোমা বলা চলে না কারণ ভেতরে পেট্রল নেই। তবে এটি পেট্রোল বোমা সরঞ্জাম বলা যায়। অন্যটি অনুষ্ঠানে যে বাজি ফোটায় সেই পটকা। এটি কোনো ককটেল নয়। মূলত আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই কেউ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। 

সাইফুল ইসলাম/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন