বিজ্ঞাপন

ডিসি অফিসের সামনে ‘জামালপুর’ বদলে ‘জামারপুর’, বিলবোর্ডে ‘আমারা’

ডিসি অফিসের সামনে ‘জামালপুর’ বদলে ‘জামারপুর’, বিলবোর্ডে ‘আমারা’

জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্থাপিত একটি সচেতনতামূলক বিলবোর্ডে জেলা শহরের নামসহ একাধিক বানান ভুল হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, স্কুলবহির্ভূত শিশু ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ার বার্তা নিয়ে টাঙানো এই বিশাল বিলবোর্ডটি বেশ কিছুদিন ধরে জামালপুর ডিসি অফিসের সামনে থাকলেও প্রশাসনের চোখে পড়েনি। স্থানীয় পথচারীদের নজরে আসার পর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটকের বাম পাশে ‘আমাদের এলাকা শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, স্কুল বহির্ভূত শিশু ও মাদকমুক্ত রাখা আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক এই বিলবোর্ডটি জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে টাঙানো হয়েছে।

তবে মূল আকর্ষণের ঠিক নিচেই জামালপুর জেলার নাম লেখা হয়েছে ‘জামারপুর’। এছাড়া ‘আমরা একসাথে কাজ করবো’ বাক্যাংশে লেখা হয়েছে ‘আমারা’। সরকারি মনোগ্রামসহ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, উন্নয়ন সংঘ এবং জেসমিন প্রকল্পের লোগো সংবলিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের সামনের বিলবোর্ডে এই ধরনের দৃষ্টিকটু ভুল সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

সাধারণ মানুষ বলছে, যে জায়গা থেকে সারা জেলা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেই জায়গার সামনেই জেলার নাম ভুল, পুরো জেলার সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অতি দ্রুত এ বিলবোর্ডের বানান সংশোধন করার দাবি জানিয়েছে তারা।

শুভ নামের এক ব্যক্তি বলেন, অনেক দিন ধরে দেখছি আমাদের ডিসি অফিসের সামনে এই বিলবোর্ডটি টানানো হয়েছে। যেখানে জামালপুর বানানই ভুল। ভুল না হয় কোনোভাবে হয়েছে, তবে এটা তো ঠিক করার দরকার ছিল। কতদিন হয়ে গেল এটা এভাবেই আছে। এটা আমাদের জেলার নাম খারাপ করছে। আমরা চাই এটা দ্রুত ঠিক করা হোক।

এই বিষয়ে জামালপুর স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৌসুমি খানম বলেন, স্থানীয় সরকারের নাম ব্যবহার করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এমন বিলবোর্ড স্থাপন করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের সাথে এ বিষয়ে কেউ আগে থেকে কোনো কথা বলেনি। সম্ভবত বিলবোর্ডটি উন্নয়ন সংঘের জাহাঙ্গীর সেলিম টাঙিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে যেকোনো প্রচারণা বা বিলবোর্ড লাগাতে হলে নেজারত শাখার অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক, তারা সেই অনুমতি নিয়েছিল কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব।

তবে এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর সেলিমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকার কারণ তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

বাঁধন হোসেন/এসএইচএ