পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারে তেলাপোকা ও তেলাপোকার গন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগ যাচাই করতে হাসপাতালের খাবার নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখেছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান। এ ঘটনার ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণের সময় অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান চামচে করে তরকারি তুলে নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখছেন। পরে আবারও চামচে খাবার তুলে একইভাবে গন্ধ পরীক্ষা করতে দেখা যায় তাকে।
রাজীব আহামদ নামে এক ব্যক্তি ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে ওই বিএনপি নেতার সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনপ্রতিনিধি না হয়েও একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের খাবারের মান যাচাই করছেন।
ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, খাবারের মান যাচাইয়ের পদ্ধতিটি দৃষ্টিকটু হয়েছে। আবার কারো কারো অভিযোগ, চামচে করে খাবার তুলে গন্ধ শুঁকে সেটি পুনরায় একই পাত্রে রাখায় খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘মান দেখাটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু পদ্ধতিটা দৃষ্টিকটু। ভবিষ্যতে আরও সচেতন হয়ে ভিন্ন পাত্রে নিয়ে মান যাচাই করলে ভালো হবে।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান জানান, জেলা ছাত্রদলের এক সদস্যের বাবা পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে দেখতে গেলে কয়েকজন রোগী খাবারে তেলাপোকা ও তেলাপোকার গন্ধ থাকার অভিযোগ করেন। রোগীদের অনুরোধেই তিনি খাবার শুঁকে বিষয়টি যাচাই করেন।
মজিবুর রহমান বলেন, ‘খাবারে তেলাপোকা ও তেলাপোকার গন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই খাবার মুখে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমি শুধু চামচে খাবার তুলে নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকেছি। এটিকে কেন্দ্র করে একটি মহল নানা বিতর্কের সৃষ্টি করছে।’
অন্যদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি মজিবর মিয়া খাবারে তেলাপোকার গন্ধ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (মজিবুর রহমান) খাবার মুখে দেননি, শুধু শুঁকে দেখেছেন। এতে খাবার নষ্ট হয়নি।’
এদিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি তেলাপোকার উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, হাসপাতালের বিছানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার উপস্থিতি বেড়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, তেলাপোকার উপদ্রব কমাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, শুধু হাসপাতালের রোগীদের নয়, সব ধরনের খাবারের বিষয়েই সতর্ক থাকা উচিত। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলে দেখব।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এসএইচএ
