বিজ্ঞাপন

ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল বন্ধ করতে গ্রামজুড়ে ‘১৪৪ ধারা’ জারির মাইকিং করায় নাটোরের লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মারুফ আলীকে তার সাংগঠনিক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পূর্বে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়া এবং অভিযুক্ত মারুফ আলী নিজে অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ ইসলাম সৃজন এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন।একইসাথে, তার সাথে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ২১ আগস্ট লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি করার জন্য আয়োজক কমিটিকে চাপ দেন মারুফ আলী। কিন্তু স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের অতিথি করার ঐতিহ্য ধরে রেখে আয়োজকরা তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

মারুফ আলী শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিজে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামজুড়ে প্রচার করেন যে, মাঠে ‘১৪৪ ধারা জারি’ করা হয়েছে এবং খেলা অনুষ্ঠিত হবে না। এই ভুয়া প্রচারণার ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তিতে আয়োজকরা শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচটি স্থগিত করতে বাধ্য হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে তদন্ত শেষে জেলা ছাত্রদল এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. মারুফ আলী বলেন, আমি সবসময় সংগঠনের প্রতি অনুগত ছিলাম এবং আছি। দলের স্বার্থে সংগঠন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমি মাথা পেতে মেনে নিয়েছি।

আশিকুর রহমান/আরকে

বিজ্ঞাপন