ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউ থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় ভুল করে এক পরিবারের নবজাতককে অন্য পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ভুলটি বুঝতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাতে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনে। আজ মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারকে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার জগন্নাথবাড়ি এলাকার নাদিরা ও মাসুদ ইসলাম দম্পতির মেয়েসন্তান জন্ম নেয় গত বৃহস্পতিবার। জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এরপর গত শনিবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে গতকাল বিকেল ৫টার দিকে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
একই দিনে ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের আবু রায়হান ও নাদিরা দম্পতির পরিবার। তাদের মেয়েশিশুটিও জন্ম নেয় গত বৃহস্পতিবার। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
গৌরীপুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মা এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দুধ খাওয়ান। এরপর শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এনআইসিইউতে ভর্তির সময় দেওয়া টোকেন পেতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিশুকে নিতে যান।
তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করতে গেলে তারা শিশুটিকে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। আবু রায়হান জানান, শিশুটি তাদের নয়। এমনকি শিশুটির চেহারার সঙ্গেও তাদের সন্তানের মিল নেই। পরে তারা শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিবারটির সদস্যদের অভিযোগ, শুরুতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সন্তোষজনক সাড়া দেননি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পর নিশ্চিত হওয়া যায়, গৌরীপুরের পরিবারের নবজাতক ভুল করে সরিষাবাড়ীর পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গিয়েছিল সরিষাবাড়ীর পরিবারটি।
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জামালপুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে হাসপাতালের লোকজন নিজেদের উদ্যোগে রাত ৩টার দিকে নবজাতককে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরে আসেন। মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান হস্তান্তর করা হয়।
গৌরীপুরের পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন বলেন, বাচ্চার পায়ে টোকেন থাকে। সেখানে বাবা-মায়ের নাম ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। মায়ের নাম একই হলেও বাবার নাম আলাদা। এরপরও কীভাবে এমন ভুল হলো, সেটি আমরা জানতে চাই। এমন ঘটনা যাতে আর কারও সঙ্গে না ঘটে, সে জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামালপুরের নবজাতকের বাবা মাসুদ ইসলাম বলেন, আমাদের সন্তান আমাদের কাছে দিচ্ছে, এটিই ধরে নিয়েছিলাম। পরে রাতে হাসপাতালের লোকজন এসে শিশুটিকে নিয়ে গেছেন। আমার সন্তান আনতে দুই বোন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসপাতালে গেছেন। তারা এখনো আমাদের সন্তান নিয়ে ফেরেননি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, নবজাতকের দুই মায়ের নাম একই হওয়ায় সমস্যাটি হয়েছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর রাতেই নবজাতককে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আজ সকালে প্রকৃত নবজাতক তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাঁদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাখাওয়াত সুমন/আরকে
