বিজ্ঞাপন

৫ জেলের মরদেহ পাওয়ার গুজবে কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

৫ জেলের মরদেহ পাওয়ার গুজবে কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পাঁচ জেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে- এমন গুজব শোনার পরপর কবর খনন করেছেন তাদের স্বজনরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ জেলেরা হলেন- মো. বিল্লাল, মো. কাওসার, মো. নুর আলম, মো. শাকিল ও মো. ইব্রাহিম। তাদের সকলের বাড়িই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাথরঘাটা থেকে গত চারদিন আগে ১৩ জন জেলে এফ বি বরকত নামে একটি ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান। পরবর্তীকালে সমুদ্রের মধ্যে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে ট্রলারটি নোঙর করেন জেলেরা। তবে এ সময় সাগরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় উত্তাল ঢেউয়ে হঠাৎ ট্রলাটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। পরে ট্রলারে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে ৮ জেলে সাঁতরে নিকটবর্তী অন্য আরেকটি ট্রলারে উঠতে পারলেও বাকি ৫ জন জেলে নিখোঁজ হন। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ওই জেলেদের। 

সরেজমিনে পাথারঘাটা উপজেলায় নিখোঁজ জেলে নুর আলম ও কাওসারের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। তাদের সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশীরাও জড়ো হচ্ছেন বাড়িতে। তবে সকাল থেকেই নিখোঁজ জেলেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এমন খবর শুনতে পান নিখোঁজ পাঁচ জেলের স্বজনরা। পরবর্তীতে তাদের দাফন করতে কবরও খনন করেন স্বজনরা।

তবে সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও মরদেহ নিয়ে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এখনও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ হওয়া জেলেদের।

ফারুক মোল্লা নামে নিখোঁজ জেলে কাওসারের এক চাচা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালে আমার এক ভাইয়ের মাধ্যমে শুনতে পাই নিখোঁজ পাঁচজনেরই মরদেহ পাওয়া গেছে। ওই খবর শুনে আমরা কবর খনন করেছি। কিন্তু এখন আবার শুনেছি মরদেহ পাওয়ার খবর সত্য নয়।

কাওসারে প্রতিবেশী ও ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে বেঁচে ফিরে আসা জামাল নামে এক জেলে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি বেঁচে ফিরেছি কিন্তু নিখোঁজ জেলেরা কোথায় আছে তা জানি না। তারা ট্রলারের ভিতরে আটকে আছেন নাকি ভেসে গেছে তাও জানি না। মানুষের কাছে শুনতে পেয়েছি তাদের মরদেহ পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সত্য কোনো খবর জানতে পারিনি।

কাওসারের স্ত্রী তামান্না ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত সঠিক কোনো খবর জানতে পারিনি। কিন্তু অনেকের কাছে শুনেছি আমার স্বামীসহ নিখোঁজ সকলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর এ কারণেই কবর খনন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কাছে সবশেষ তথ্য অনুযায়ী গতকাল ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ থাকা পাঁচ জেলেই এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খরব পেয়েছি তাদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখা গেছে। তবে আমার থানা এলাকায় এখনও কারো মরদেহ এসে পৌঁছায়নি। এ কারণে নিশ্চিত হতে পরছি না। 

মো. আব্দুল আলীম/এসএইচএ