বিজ্ঞাপন

পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের নামফলক নিয়ে তর্কে জড়ালেন দুই এমপি

পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের নামফলক নিয়ে তর্কে জড়ালেন দুই এমপি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ও বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।  

জানা যায়, বিকেলের দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। এ সময় জামায়তের এমপি আব্দুল মুনতাকিম সেই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে বিষয়টি জানার পরে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন। তিনি উপস্থিত হওয়ার পরে নামফলকে জামায়াতের এমপির নাম দেখেন। পরে শুধু একজন এমপির নাম রাখা হয়েছে কেন সেটি জানতে চান। এ সময় সেটি নিয়ে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। 

এ বিষয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপজেলা পরিষদে একটা করে এমপিদের পরিদর্শন কক্ষ থাকবে, সেটি মূলত তাদের বসার জায়গা। অন্য জায়গা থেকে কোনো মন্ত্রী আসলে তারা সেখানে বসতে পারবেন। আজকে এই পরিদর্শন কক্ষটি উদ্বোধন করবে সেটি আমি জানতাম না। জামায়াতের এমপি বলেছে এটি আজকে উদ্বোধন করবেন, তবে উনিতো উনার কথামতো উদ্বোধন করতে পারেন না। কারণ এখানে আমি সংরক্ষিত আসনের এমপি আছি। এখানে দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমার দায়িত্ব নীলফামারী চার আসন ও তিন আসন। তাছাড়াও আমি দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমার দল এখন সরকারে। আমি কিছুই জানিনা। প্রশাসন তাকে বলেছিল মহিলা এমপির সঙ্গে কথা বলতে। ওরা বলেছিল না। তারা সেখানের চাবি নিয়ে নিসে সবকিছু ওদের কাছে, মানে দখল করার মতো। 

তিনি বলেন, আমি খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে গেলাম। সেখানে যাওয়ার পরে দেখি উদ্বোধনের একটা নামফলক সেখানে মুনতাকিম, তখন আমি প্রতিবাদ করলাম। এটা শুধু মুনতাকিমের নামে হতে পারে না, সকল এমপির জন্য এটা এখানে। শুধু মুনতাকিমের নাম ফলক থাকবে কেন। তার কথা হলো ভৌগোলিক হিসেবে এটা তার। আমরা সংরক্ষিত, আমাদের পুরো বাংলাদেশ। সেখানে আমি বললাম মহিলা এমপিদের অবশ্যই পুরো বাংলাদেশ। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকায় পরিদর্শন কক্ষ রয়েছে সেখানে নামফলকে কারো নাম নেই।  

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে কি হয়েছে সেটি সাক্ষাতে বলি। ফোনে আমরা বলবো একটা আপনারা লিখবেন একটা। আমরা এ পর্যন্ত এটা খেয়াল করছি বলি একটা লিখে একটা। এ বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাতে কথা হবে। 

বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানের জামায়াতের যে এমপি তার নামে নাম ফলক রয়েছে। সেখানে দুজনের নাম রাখার কথা ছিল। সেখান শুধু একজনের নাম সেটা হয়তো ইউএনও সাহেব ভুল করেছে। আর এখানের যিনি জামায়াতের এমপি আছেন তিনি বলছেন যে এটা নীলফামারী ৪ ভৌগোলিক এলাকা তার, এখানে তার নাম থাকবে। মহিলা আসনের এমপি দাবি করেছেন- এই আসনে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা দেখার জন্য। এখানে তিনিও বসবেন। 

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরিদর্শন কক্ষ তো আসলে এমপি মহোদয় যারা রয়েছেন তাদের এখতিয়ারের মধ্যে, কক্ষটি উনাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এটি একান্তই উনাদের বিষয়।

এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, এম এ পারভেজ লিটন, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ মাজহারুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শাহজাহান ইসলাম লেলিন/আরএআর