কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্টে নিখোঁজের প্রায় ৩১ ঘণ্টা পর ভেসে উঠেছে নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্টের মরদেহ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সৈকতের পাড়ে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা বিষয়টি সৈকতের কর্মীদের জানান।
খবর পেয়ে সৈকতের কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং মরদেহের শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটি নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্টের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে নাজিরারটেক পয়েন্টের সাগরের মোহনায় ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের একটি বোট প্রবল ঢেউ ও স্রোতের ধাক্কায় দুই টুকরো হয়ে যায়। এ সময় বোটে থাকা নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবারের ৪ সদস্য সাগরে পড়ে যান।
স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের সহায়তায় পরিবারের ৩ সদস্য— ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পুদনে, তার ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী বেলা এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে পরিবারের ১৬ বছর বয়সী ছেলে আলবার্ট তখন থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই আলবার্টকে উদ্ধারে সাগরে তল্লাশি চালায় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেরা।
জানা গেছে, নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি ২০২৪ সালে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসে। পরে কক্সবাজারের এসএম পাড়ার একটি ডকে প্রায় দুই বছর ধরে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের বোটটি তৈরি করে। দীর্ঘদিন বসবাস ও সমুদ্রযাত্রার উপযোগী করে তৈরি করা বোটটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রান্নাঘর, ফ্রিজসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। বোটটি তৈরিতে এক কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিবারটি প্রায় আড়াই বছর ধরে ওই বোটে বসবাস করে দেশের বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় এলাকায় চলাচল করছিল। নিজেদের তৈরি বোটে করে সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের ধাক্কায় বোটটি ভেঙে যায়।
উদ্ধার হওয়া পরিবারের ৩ সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা বোটে করে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তারা চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এদিকে পরিবারের ৩ সদস্যের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বা তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এমএমবি
