বিজ্ঞাপন

ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর হত্যা, চাচা ও তিন চাচাতো ভাইসহ আসামি ২৩

ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর হত্যা, চাচা ও তিন চাচাতো ভাইসহ আসামি ২৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী আল আমিন সৈকতকে হত্যার অভিযোগে তার চাচা ও তিন চাচাতো ভাইসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলাটি করেন।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, নিহতের চাচা মোমেন মিয়া এবং তার তিন ছেলে বাবু (২৯), জুম্মান (২৪) ও হাসান (২২)। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ভৈরব বাজারের ‘ফকির মার্কেট’ নামে পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে কয়েক বছর ধরে আল আমিনের সঙ্গে তার চাচার পরিবারের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে তার একাধিকবার বিরোধ ও মারামারি হয়। তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।

গত ২৩ আগস্ট রাতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রিভারভিউ’ হোটেল থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন আল আমিন। রাত ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে রমজান মিয়ার হাওলির ভেতরে ঢোকার পর কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট পর একটি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত আল আমিনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তিন দিন পর মামলা করার বিষয়ে নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য সময় নিয়ে তিনি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে আমার স্বামীকে আগে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজের সঙ্গে পরিবারের দেওয়া বর্ণনার অনেকটা মিল পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আল আমিন সৈকত ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ভৈরব চেম্বারের সাবেক পরিচালক এবং জেলা সার সংগঠন বিএফএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার আসামি হাসানকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার করা হলেও ভৈরব উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই।

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/আরকে

বিজ্ঞাপন