নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে (৫০) দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে ভুক্তভোগী যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত, তখন তাকে চিকিৎসার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে সেটির ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বকুল ও তার সঙ্গীরা তাকে বিভিন্ন স্থানে শারীরিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। এতে ভুক্তভোগী একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার মেয়েটি রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে এবং বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রধান অভিযুক্ত বকুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চয়ন দেবনাথ/এসএইচএ
