ঋণের চাপে চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ও টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ।
তিনি বলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ সদস্য নিজ থেকেই আত্মগোপনে বা পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি না জেনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়াচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।
আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন- পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি এবং বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। পিন্টুর মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফরগঞ্জে তার আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন।
পিন্টু দাসের আত্মীয় উপমা দে জানান, পিন্টু দাস স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, পিন্টু দাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েন।
একাধিকবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখা হতো।
আখন্দ মার্কেটের মালিক মফিজ উদ্দিন সরকার বলেন, প্রায় ৫-৬ মাস আগে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেন পিন্টু। কয়েক মাসের দোকান ভাড়াও আমার পাওনা রয়েছে।
চাঁদপুর জেলা জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, পিন্টু দাসের ঋণ রয়েছে। টাকা-পয়সা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
আনোয়ারুল হক/এমএমবি
