যশোর সদর উপজেলায় মাকে কুপিয়ে হত্যার করেছে ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের বাজে-দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ারা খাতুন (৫৫) স্থানীয় আলতাব মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মামুন তার বড় ছেলে। তিনি ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রব্বানী হোসেন জানান, মামুনের এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মামুন তার মাকে স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য দায়ী মনে করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মাকে গলায় কয়েকটি কোপ দিলে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়। ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে মামুন পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রেজওয়ান বাপ্পী/এসএইচএ
