পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে চিকিৎসক না হয়েও রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোকসানা আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা রোকসানা বাজারের একটি ফার্মেসিতে বসে রোগী দেখেন এবং ওষুধের পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই মধ্যে তার কাছ থেকে ওষুধ নেওয়ার পর সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছে ওই নারীর পরিবার। পরিবারের দাবি, অসুস্থ অবস্থায় রোকসানা ওই নারীকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের ওষুধ দেন। এক সপ্তাহ ওষুধ সেবনের পর আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জগদল বাজারের মাতৃসেবা ফার্মেসিতে গিয়ে রোকসানা আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় রোগীদের প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, রোগীদের ওষুধ লেখার অনুমতি রয়েছে তার।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট একই এলাকার মিজানুরের স্ত্রী শারমিন আক্তার অসুস্থ হয়ে ওই ফার্মেসিতে যান। তখন তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রোকসানা তাকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের ওষুধ লিখে দেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শারমিন প্রায় এক সপ্তাহ ওই ওষুধ সেবন করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। এতে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
শারমিনের মামি ফাতেমা আক্তার বলেন, প্রথম বাচ্চা। সাত মাস হয়ে গেছে। ওষুধ খাওয়ার পর বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। পরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখা যায়, বাচ্চা মারা গেছে। পরে জানতে পারি, যিনি ওষুধ দিয়েছেন তিনি ডাক্তার নন। ডাক্তার না হলে এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দিল কেন?
শারমিন আক্তার বলেন, ওষুধ খাওয়ার কারণে আমার বাচ্চা মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক না হলে এ ধরনের ওষুধ লেখার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নুর হাসান/এসএইচএ
