আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে পরিবারসহ চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে তাকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর মালিক। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ সময় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। পিন্টু দাস চট্টগ্রামের পটিয়া থানার দলাঘাটা দাশপাড়া এলাকার সুনিল কুমার দাসের ছেলে।
পুলিশের দাবি, ঋণের চাপে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস জানিয়েছেন, প্রচুর ঋণের চাপে পড়ে তিনি আত্মগোপনে যান।
এদিকে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার বন্ধক ও টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্নস্থানে তল্লাশি চালিয়ে তার গ্রামের বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রচুর ঋণের চাপে আত্মগোপনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ২০ আগস্ট রাসেল খান নামে এক ব্যক্তি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি পিন্টু দাসের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখেছিলেন। কিন্তু পিন্টু সেই স্বর্ণ ফেরত দিচ্ছিলেন না। এ ছাড়া ২২ আগস্ট ভাড়া বাসার মালিক পিন্টুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
লুৎফুর রহমান বলেন, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে কাজ শুরু করা হয়। পিন্টুর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একপর্যায়ে জানা যায়, পিন্টু ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে পরিবারসহ উদ্ধার করা হয়।
আনোয়ারুল হক/এমএমবি
