বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমিতে রেলের ক্যারেজ ওয়ার্কশপ হবে : রেল সচিব

রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমিতে রেলের ক্যারেজ ওয়ার্কশপ হবে : রেল সচিব

রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমির ওপর ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ী রেলস্টেশনসহ রেলের বিভিন্ন স্থাপনা ও জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রেল সচিব বলেন, রাজবাড়ী রেলের শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে রেলের অনেক স্থাপনা ও জমি রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজবাড়ীর রেলের মাঠটিও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় রেলের শর্ত বজায় রেখে মাঠটির উন্নয়ন করা হবে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে।

হুসনেবাগ সিনেমা হল পরিদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে একটি কালচারাল কমপ্লেক্স করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজবাড়ীতে শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার জন্য একটি কমপ্যাক্ট জায়গায় আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স করা গেলে তা জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, রেলের জায়গায় বর্তমানে কিছু স্কুল ও প্রয়োজনীয় স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো বাদ দিয়ে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত জায়গা কীভাবে জেলার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে রেলের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

রাজবাড়ী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের বিষয়ে রেল সচিব বলেন, এটি সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। এখানে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালে অংশীজনদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১০৫ একর জমির ওপর একটি ক্যারেজ ওয়ার্কশপ হবে। এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ওয়ার্কশপ নির্মাণের জন্য আমরা বিনিয়োগকারী খুঁজছি। চীনের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্কশপ নির্মাণের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রেলের জমির প্রয়োজন হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা না করে হুটহাট করে রেলের জমি কোনো কাজে দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

রাজবাড়ী রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে রেল সচিব বলেন, বর্তমানে স্টেশনটি উত্তরমুখী রয়েছে। এটিকে দক্ষিণমুখী করার প্রস্তাব রয়েছে। সময়ের দাবি অনুযায়ী স্টেশনটি রিমডেলিং করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্টেশনের যে ডিজাইন করা হয়েছে, সেটি হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের উপযোগী একটি আধুনিক স্টেশনের ধারণা দিচ্ছে। তবে এ কাজের জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। রেলের রাজস্ব খাত থেকে এত বড় কাজ করা সম্ভব নয়।

রেলের জমি দখলমুক্ত করার বিষয়ে মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই রেলের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় এসব জমি দখল হয়ে গেছে। রাজবাড়ীতেও রেলের জমিতে অনুমতি ছাড়াই কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে রেলের জায়গায় দলীয় কিছু ঘর দেখতে পেয়েছি। এগুলো কেউ অনুমতি নিয়ে করেনি। আমরা তাদের অনুমতি দিইনি। কোথাও কোথাও ব্যক্তি মালিকানাতেও চলে গেছে। উচ্ছেদ অভিযান আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। প্রয়োজন হলে সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হবে।

রেল সচিব আরও বলেন, রেলের জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রেলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারী, সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীবসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এমএমবি