বিজ্ঞাপন

বিয়ের ২ দিন পর গাছের সঙ্গে ঝুলছিল স্কুলশিক্ষকের মরদেহ

বিয়ের ২ দিন পর গাছের সঙ্গে ঝুলছিল স্কুলশিক্ষকের মরদেহ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিয়ের দুদিন পরই গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আবু সালেম প্রধান (২৮) নামের এক স্কুল শিক্ষক। চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মধ্য নিরুপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ২৬ আগস্ট পারিবারিকভাবে বিয়ে করে এই স্কুল শিক্ষক।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত স্কুলশিক্ষক আবু সালেম প্রধান দরবস্ত ইউনিয়নের মধ্য নিরুপাড়া গ্রামের ইসহাক প্রধানের ছেলে এবং উপজেলার কাটাখালী বালুয়াহাট এলাকার ‘ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট বুধবার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের মালেকাবাদ এলাকার আইস উদ্দিনের মেয়ে শ্যামলী আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সালেমের। পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও আনুষ্ঠানিকতায় আপত্তি ছিল নিহত সালেমের। সালেমের চাওয়া ছিল কেবল বিয়ে রেজিস্ট্রি করে রেখে সুবিধামতো সময়ে এর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার, কিন্তু তা হয়নি। এরমধ্যেই আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে গ্রামের কলাবাগানের একটি গাছে গলায় ফাঁস নিয়ে ঝুলছিল সালেম। এমন দৃশ্য স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়দের খবরে সালেমের মরদেহ উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধার অভিযান ও ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত দুইদিন আগেই বিয়ে করে সালেম। নববধূ, পরিবারের সদস্য ও অন্য বিষয়ের ওপর তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো এক হতাশা থেকে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তিনি। আমরা ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করছি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বলেন, স্থানীয়দের খবরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিয়ের দুদিন পরেই আত্মহত্যা করে মৃত্যুর বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ