বিজ্ঞাপন

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নাব্যতা সংকট দেখিয়ে ১৫দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিআইডব্লিউটিএয়ের গাফিলতি এবং চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে প্রায়ই সময় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফেরির জন্য অপেক্ষা করা পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নৌ রুটে বিআইডব্লিউটিএয়ের উদ্যোগে এ নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর। উদ্বোধনের পর দেড় মাসের অধিক সময় নিয়মিত দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন পারাপার করে আসছে। প্রতি ট্রিপে ফেরি কুঞ্জলতা ৮ থেকে ৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২ থেকে ১৩টি ও কদম ৮ থেকে ৯টি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করতো। এর মধ্যে বেগম সুফিয়া কামালও ফেরি কুঞ্জলতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কদম ফেরি থাকলেও ব্রহ্মপুত্র নদে চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে ১৫ দিন ধরে বন্ধ রযেছে।এতে করে ভোগান্তিতে পরেছেন পণ্যবাহী পরিবহণের চালক ও শ্রমিকরা। ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে ন্যাবতার কারণ দেখিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলে ৫৪১ দিন।

এসময় ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন,ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ১৫টির মতো ট্রাক ফিরে গেছে। আমি ও এসে দেখি ফেরি বন্ধ তাই ফিরে যাচ্ছি।

রংপুর থেকে আসা ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ৭ দিন ধরে ঘাটে আছি। শুনছি ফেরি চলবে কিন্তু আর ফেরি চলে না। আজ যদি ফেরি না চলে তাহলে অনেক পথ ঘুরে ঢাকা যেতে হবে। এতে আমাদের সময় ও ব্যায় বেশি হবে।

স্থানীয় হাবিবুর রহমান বলেন, আন্ধার মানিক নামে একটি শক্তিশালী খনন করা ডেজিং মেশিন আছে। সেই মেশিন দিয়ে যদি এখানে খনন করা যায় তাহলে সহজেই ফেরি চলাচল করতে পারবে। এতে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশে বিঘায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। রৌমারী ঘাট ও দুই বিঘা এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। আমি ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছেন আরও দুইটি ড্রেজিং মেশিন পাঠাবেন কিন্তু এখন পর্যন্ত পাঠায়নি। তিন-চার দিন আগে রৌমারীতে গিয়েছিলাম ঘাট এলাকার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি যদি এ ভাবে বন্ধ থাকে তাহলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এটা আমাদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)-১০ চিলমারীর সমির চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়রা বাঁধা দেওয়ায় খননের কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু দুইশে বিঘাতে খনন চলছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ড্রেজিংয়ের খনন কাজে বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি জানতে রৌমারী ঘাট এলাকায় আসাদুল ইসলাম, আনিছুর রহমান, জাহিদসহ অনেকেই বলেন, এখানে ড্রেজিংয়ের কাজে কেউ বাঁধা দেয়নি। তাদের এটা মনগড়া কথা। ড্রেজিংয়ের কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে খনন হচ্ছে না। এই রুটে ফেরির বন্ধের পায়তারা চলছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তারা চান না এখানে ফেরি চলাচল করুক। যদি এই ফেরি বন্ধ হয় তাহলে এখানকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফেরি সার্ভিসটি দিন রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা ও জনদুর্ভোগ নিরসন করার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমি আশা করছি তারা বিষয়টি দেখবেন।

মমিনুল ইসলাম/আরকে

বিজ্ঞাপন