বিজ্ঞাপন

মাদক-বালুর বিরোধের জেরে যুবদল-শ্রমিক দলের সংঘর্ষ, আহত ৬

মাদক-বালুর বিরোধের জেরে যুবদল-শ্রমিক দলের সংঘর্ষ, আহত ৬

ফেনীর পরশুরামে অবৈধ মাদক চোরাচালান ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যুবদল ও শ্রমিক দলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর সীমান্ত ও বটতলী বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান এবং ফকিরের খিলের মুহুরী নদী ও বটতলা বাজারের পূর্ব পাশের এলাকা থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেনের অনুসারী এবং মির্জানগর ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতা শাহ আলমের অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে মধ্যম রাঙ্গামাটিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক বহনের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ইকরাম, শামীম ও রিয়াজের পথরোধ করেন শাহ আলমের অনুসারী ফারুক, হাসান ও রাজু। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শামীম ও রিয়াজ বটতলা বাজারে ফিরে এলে সেখানে আবারও দুইপক্ষ মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষেও কয়েকজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ইকরাম (৩২) পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মো. হোসেন (২১) এবং উত্তর কাউতলী গ্রামের মো. ওমর ফারুক (২৭) হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এ সংঘর্ষের ঘটনায় দুইপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেনের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে শাহ আলমের লোকজন সাইফুল ইসলাম ইকরামের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ আলম বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক নিয়ে আসার সময় শামীমকে বাধা দেওয়া হলে সে উল্টো আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে সংঘর্ষের পর শাহ আলমের অনুসারীরা বটতলা বাজারের বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মির্জানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আহমেদ খন্দকার বলেন, বটতলী বাজারে বিএনপির নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। ব্যক্তির নামে অফিস থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারেক চৌধুরী/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন