নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের বাধার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে বাধা ও বাল্যবিয়ে আয়োজনের অভিযোগে আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামে এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর সরকারি গাড়ির গতিরোধ করেন।
প্রশাসনের অভিযোগ, প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুনিরুল জামান মুনির বলেন, বিয়েটি দুই বছর আগে হয়েছে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ইউএনও এসে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলে কিছুটা ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তবে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন এবং হামলায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকজন প্রশাসনের গাড়ি আটকে দেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইউএনও আরও বলেন, বাল্যবিয়ে আয়োজন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুন্নাফ, রাব্বী, ইউনূস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মনিরুল ইসলাম শামীম/এসএইচএ
