বিজ্ঞাপন

রংপুরে ৪ খুন

আটকের সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর মুচলেকায় ছাড়া পেলেন সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাই

আটকের সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর মুচলেকায় ছাড়া পেলেন সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাই

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে আটকের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে, শনিবার বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসার সামনে থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তারা হলেন— অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস।

শনিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চার খুন মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বাবা এবং বড় ভাইকে আমরা বিকেলে এনেছিলাম। আমরা এর আগে তাদেরকে অনেকবার বলেছি, আমাদের অফিসে এসে তাদের সাক্ষাৎকারটা দেওয়ার জন্য, কিন্তু তারা কোনোভাবেই আসেননি। সেজন্য আমরা তাদের নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। আনার পরে আমরা তাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছি। কিছু তথ্য আমরা তাদের কাছ থেকে পেয়েছি। এই বিষয়গুলো আমরা আবার যাচাই-বাছাই করব।’

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তাদেরকে আমরা মুচলেকা সম্পাদন করে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেগুলো তারা জানিয়েছে, সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। আর পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আবার তাদের আমরা ডাকব। তারা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ডাকলে আমাদের অফিসে তারা আসবেন।’

এদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সেন্ট্রাল রোডের কার্যালয় থেকে সিঁড়ি হয়ে তিনতলা থেকে নামার সময় পার্থ দাসকে তার বাবাসহ অন্য একজনের কাঁধে ভর করে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্থ দাস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কিছু হয়নি, সুন্দর ব্যবহার করেছে। আমি বাড়িতে ভয়ে ছুটোছুটি করছি, ওই কারণে পায়ে কোমরে আঘাত লেগেছে। এজন্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছি। ডিবি অফিসে আমাদেরকে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।’

সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘আইনগত বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কীভাবে মারা গেছে, কী ঘটনা— এসব তারা জানতে চেয়েছিল। আমরা আগে সাংবাদিকদের যা বলেছি, এখানেও তাই বলেছি। এখানে নিয়ে আসার পর আমাদের সঙ্গে নির্যাতন বা ভয়ভীতি দেখানোর মতো কিছু হয়নি। যা কিছু হয়েছে, সেটা বাসাতেই হয়েছে। আমরা ভয়ে আসতে চাইছিলাম না, ধস্তাধস্তি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএএস

বিজ্ঞাপন