ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক উপস্থিতি ও সেবার মান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের এক সহকারী অনুপস্থিত থাকায় তাকে পাশের উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেন তিনি। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনি ওই হাসপাতালে অবস্থান করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ঘুরে ঘুরে দেখতেছি। আমরা নতুন নতুন ডাক্তার নিচ্ছি, নার্স নিচ্ছি। কারণ গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতটাকে সাংঘাতিকভাবে অবহেলা করা হয়েছে। ওই সরকার যেগুলো করেছে, টাকা চুরির জন্য করেছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আপনাদের এখানে রোগীদের সাথে আলাপ করলাম ডাক্তার নার্সদের ব্যবহার ভালো। আমাদের কাছে যেসব ওষুধ আছে তা শতভাগ রোগীরা পাচ্ছে। এটা একটা ভালো দিক। রোগীরা নিজে মুখেই এটা স্বীকার করছে। বিছানাপত্র, খাবারের মানও ভালো। চিকিৎসকদের উপস্থিতি ভালো। শয্যা বাড়িয়ে আমরা ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট যেসব হাসপাতাল করতে যাচ্ছি সেখানে আধুনিক প্যাথলজি হবে, চিকিৎসার আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে। ২০টা শয্যা থাকবে নারীদের জন্য সংরক্ষিত, ২০টা বেড থাকবে শিশুদের জন্য সংরক্ষিত। গ্রাম লেভেলে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য আমরা ১০ টা শয্যা রাখবো।
তিনি বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য দেওয়া হবে। ফরিদপুর সদর হাসপাতালে দেওয়া হবে ১০টা ডায়ালাইসিস শয্যা। একই সুবিধা আমরা উপজেলা লেভেলে ১০টা সিট দিয়ে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে করবো। এতে অতি অল্প খরচে মানুষ সেবা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই ফরিদপুরেই আমাদের ১৮ কোটি টাকার একটা মেশিন পরে আছে। যন্ত্রও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা এগুলো লক্ষ্য করেনি।
এ সময় তিনি চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
বর্তমানে ৫০ শয্যারই যথেষ্ট লোকবল নেই সেখানে ১৫১ শয্যা করা হলে পর্যাপ্ত লোকবল পাওয়া যাবে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে লোকবল নিয়োগের বিষয়েও কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালে অনেকটা চুপিসারে এসে পৌঁছান। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটি ওয়ার্ড, রান্নার স্থান, ওয়াশ রুম ঘুরে দেখেন। এছাড়াও তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা ও রোগীদের সাথে কথা বলে চিকিৎসার সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে গিয়ে হাজিরা খাতায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারী রিনা আক্তার নামে একজনকে অনুপস্থিত দেখতে পেয়ে তাকে পাশের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলির নির্দেশ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, চরভদ্রাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী প্রমুখ।
জহির হোসেন/আরএআর
