বিজ্ঞাপন

রংপুরে ইআইটির প্রশিক্ষিত যুবারা পেলেন কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি ও চাকরি

রংপুরে ইআইটির প্রশিক্ষিত যুবারা পেলেন কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি ও চাকরি

প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে রংপুরে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি ও চাকরি প্রদানের সনদ বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ইঞ্জিনিয়ারস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (ইআইটি) এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেন, আমাদের যুব সমাজকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষতার ঘাটতির কারণে বেকার যুবদের আমরা জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠাতে পারছি না। প্রশিক্ষিত জনবল বিদেশে পাঠাতে পারলে নিজ, পরিবারের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হবে। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আমরা দেশে আনতে পারতাম।

বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষে ইআইটিসহ রংপুর বিভাগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিতরা যেন আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সে লক্ষে তাদের কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এ কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হবে। আগামীতে প্রতিটি মানুষ হবে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন জনসম্পদ।

আসাদুল হাবিব বলেন, প্রশিক্ষণকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই হতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। প্রশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের হাতে প্রয়োজনীয় কর্মসহায়ক উপকরণ তুলে দিলে তারা প্রশিক্ষণকে বাস্তব কাজে রূপ দিতে পারবেন। এতে পরিবারে স্বচ্ছলতা আসার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে ইআইটির পরিচালক নাজমুল আলম নাজুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসআইসিআইপি প্রোগ্রাম বিভাগের উপসচিব সোহেল মাহমুদ, রিহ্যাবের প্রধান সমন্বয়কারী কাজী আবুল কাশেম, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক যুব জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে যুবসমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না; প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি বিতরণ এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরির মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ইআইটিতে ২৫ জনকে চাকরি প্রদান ও বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি প্রদান করা হয়।

ইআইটি রংপুর ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার ধারাবাহিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব ও যুব মহিলারা কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি ও নিয়োগপত্র পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে