বিজ্ঞাপন

৩ ফুট করে খোলা হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট

৩ ফুট করে খোলা হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট

‎টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িসহ হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাটের ওপেনিং বাড়িয়ে সর্বশেষ তিন ফুট করা হয়েছে। এরপর বাঘাইছড়ির প্লাবিত নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

‎কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

‎বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। কোথাও কোথাও সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় গেটগুলোর ওপেনিং পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে সর্বশেষ তিন ফুট করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।

‎কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন করা হতে পারে।

গেটগুলোর ওপেনিং তিন ফুট করার পর রোববার দুপুর থেকে বাঘাইছড়ির প্লাবিত নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকা থেকে পানি সরে যাওয়ায় সেখানে পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটি শহরের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বেশির ভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সেতুটিতে প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ রেখেছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

‎হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‎‎মোস্তফা কামাল রাজু/আরকে

বিজ্ঞাপন