মাঠজুড়ে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও মৌসুম এলেই কৃষকের বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় সংরক্ষণ। দীর্ঘদিন রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় একদিকে পচে নষ্ট হয় উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি অংশ, অন্যদিকে বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয় কৃষকদের। এবার সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিস।
উৎপাদিত পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে মৌসুমের পর তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে এয়ারফ্লো মেশিন। প্রথম ধাপে উপজেলার ২০ কৃষকের হাতে এসব মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ১৩০ কৃষককে দেওয়া হবে এ মেশিন।
রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য মোট ১৫০টি এয়ারফ্লো মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০ জন কৃষকের মধ্যে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ১৩০টি মেশিনও কৃষকদের দেওয়া হবে। প্রতিটি এয়ারফ্লো মেশিনের জন্য সরকারি বরাদ্দ রয়েছে ২৮ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে মেশিন কেনার জন্য ২১ হাজার টাকা এবং সংরক্ষণ ঘরের মেঝে ও দেয়াল তৈরির জন্য কৃষককে দেওয়া হবে ৭ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেঁয়াজ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৪২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। বিপরীতে দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন। অর্থাৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা অনেক সময় মৌসুমের শুরুতেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন। পরবর্তী সময়ে বাজারে ঘাটতি দেখা দিলে আমদানির প্রয়োজন হয়। এতে বাজারে দামের ওঠানামাও দেখা দেয়। তাই পেঁয়াজ উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে উৎপাদনের পরপরই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি না করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বাজারেও পেঁয়াজের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।
বিনামূল্যে এয়ারফ্লো মেশিন পেয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, সংরক্ষণের সুযোগ বাড়লে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ার হার কমবে। একই সঙ্গে মৌসুমে কম দামে ফসল বিক্রির চাপও কমবে এবং উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষকদের মতে, পেঁয়াজের মতো দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে উৎপাদনের পরপরই বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে যে দামের পতন হয়, তা অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এয়ারফ্লো মেশিন সেই সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছেন তারা।
তাছিন জামান/আরকে
