বিজ্ঞাপন

বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১০২ বস্তা সরকারি চাল, আটক করলেন স্থানীয়রা

বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১০২ বস্তা সরকারি চাল, আটক করলেন স্থানীয়রা

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে রাতের আঁধারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০২ বস্তা সরকারি চাল বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে গাড়িসহ থানায় নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের মালিভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আনোয়ারুল হকের আওতাধীন ১০২ বস্তা সরকারি চাল একটি গাড়িতে করে নেকমরদ বাজারের চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা গাড়িটিকে আটক করেন। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা গাড়িতে থাকা ১০২ বস্তা চাল উদ্ধার করে গাড়িসহ রাণীশংকৈল থানায় নিয়ে যান। বর্তমানে উদ্ধার করা চাল ও চাল বহনকারী গাড়িটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নোমান, নাজমুল ও জাহাঙ্গীর বলেন, রাতের আঁধারে একটি গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ চাল নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তারা গাড়িটি থামিয়ে চালগুলো দেখতে চান। বস্তাগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল বলে জানতে পেরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সরকারি সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ এসব চাল এভাবে অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হবেন। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, ওই চালটা আমার না, এটা সরকারি চাল। আমাদের গ্রামে যারা চাল পায়, তাদের মধ্যে কেউ কেউ চাল নিয়ে যায়, আবার কেউ কেউ টাকা নিয়ে যায়। এটা সত্য কথা। আমার এক ভাতিজা চালগুলো তার দোকানে কিনে স্টক করেছে। টাকার প্রয়োজন ছিল, তাই তাকে আমি বলেছি, তুমি চালটা বিক্রি করে দাও।

রাণীশংকৈল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, চালগুলো থানায় আনা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত কারা, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

রেদওয়ান মিলন/আরএআর

বিজ্ঞাপন