সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে। কোনো ধরনের বিভাজন নয়, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষ্যে স্কুলভিত্তিক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আম্রকানন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের পান্না চত্বর প্রদক্ষিণ করে আজাদী ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগীত, কবিতা, নৃত্য ও নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মনের খোরাক। সরকার সুস্থ, সাবলীল ও গণমুখী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়। এমন সংস্কৃতি মানুষের মনে স্বস্তি দেবে এবং মানুষকে আরও মানবিক করে গড়ে তুলবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, নাটক ও গজল রচনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং তার লেখার চেতনা ধারণ করতে হবে।
নজরুল বর্ষ পালনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ পালন করা হবে। এ সময়ে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ তৈরি করা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করা হবে।
জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রাজবাড়ীর ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, স্কুলভিত্তিক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজরুলসংগীত, নজরুলের নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয়, একক নৃত্য, হামদ ও নাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ
