ফরিদপুরে স্ত্রী হাসিনা বেগমকে (৩০) হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ শামিমা পারভীন এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরহাদ মোল্লা (৩৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসিনা বেগমের স্বামী ফরহাদ মোল্লা যৌতুকের জন্য তার স্ত্রীকে প্রায়ই চাপ দিতেন। একপর্যায়ে তিনি হাসিনার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা নগদ যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গত ২০২৩ সালের ৩১ মে রাত থেকে ১ জুন সকালের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার স্ত্রীকে সে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসিনার বাবা মছলেম খলিফা মেয়ের স্বামীর বাড়িতে গিয়ে নগরকান্দা উপজেলার বাস্তপট্টি গ্রামের বাড়িতে তার স্বামীর ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় হাসিনার মরদেহ দেখতে পান। পরে ওই দিনই তিনি বাদী হয়ে ফরহাদ মোল্লাসহ পাঁচজনকে আসামি করে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২৪ সালের ৩ মার্চ এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ মণ্ডলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আদালতের ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে আমরা আশা করি।
জহির হোসেন/এসএইচএ
