মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ফসলি জমিতে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি মো. আফছারকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম।
এর আগে, রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকার পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি, মো. আফছার (৫৫) উপজেলার মৈশলোহা গ্রামের মৃত খয়রুদ্দিনের ছেলে। তবে তিনি ঢাকার পল্লবী থানার বাউনিয়া বাধ এলাকায় বসবাস করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. আফছারের সাথে নিহত লাইলী বেগমের দীর্ঘ ১৮-১৯ বছরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিয়ের বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে আফছার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে আফছার ঢাকার সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমার বাসা থেকে একটি ধারালো ফল কাটার চাকু সঙ্গে নেন আফসার। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে তিনি লাইলী বেগমকে সঙ্গে নিয়ে সাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা সাটুরিয়ার নয়াডিঙ্গি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্ধকার নেমে এলে লাইলী বেগমকে নাহার গার্ডেনের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় আফসার। সেখানে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর পর বিয়ের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে লাইলী বেগমের পরনের কাপড়ের আঁচল দিয়ে পেছন থেকে গলায় প্যাঁচ দিয়ে শ্বাসরোধ করেন আফসার। এতে লাইলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেন। পরে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ধারালো চাকু দিয়ে তার পেটে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আফছার।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আফছারকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের চর ধানকোড়া এলাকায় কুদ্দুস মিয়ার ফসলি জমি থেকে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা লাইলী বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মহিলার পেটে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন এবং মহিলার ভুড়ি বের হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। মরদেহের পাশেই একটি স্টিলের চাকু পাওয়া যায়।
সাইফুল ইসলাম/এসএইচএ
