বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা আজকে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। গত ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড দিয়ে বলা হতো, এই এলাকা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়ে গেছে। আমরা অনেক কিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসবই ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, তারা বিদ্যুতের কোনো স্থায়ী সমাধান না করে কুইক রেন্টালের নামে বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনগণের মাঝে বিদ্যুৎ এবং গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা তৈরি করছি। সে জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু পুলিশ প্রশাসন দিয়ে এককভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স থাকতে হবে। এখানে কোনো দল বা কার কী পরিচয়, তা দেখার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে সে যে দলেরই হোক, কেউ গিয়ে যদি তদবিরও করে, আপনারা তা শুনবেন না। আপনারা আপনাদের কাজ করবেন। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যও যুক্ত থাকলে তাকে এই স্টেশন থেকে চলে যেতে হবে। তাদের এখানে চাকরি করার সুযোগ নেই। এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাতের গভীর পর্যন্ত পরিশ্রম করে দেশটাকে একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। সামান্য কিছু ব্যক্তির জন্য এই অর্জন নষ্ট হবে, আমরা তা হতে দেব না। একটা মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে এবং করবে আমাদের এই অর্জনগুলোকে নষ্ট করার জন্য।
তিনি বলেন, আজকে ছয় মাসের মাথায় অনেক এমন সব কথা বলছে, যেন আমরা পরিপূর্ণভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা কোনো দায়িত্ব পালন করছি না। তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাহায্য করতে হবে।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের এমপি মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আমিনুর রহমান সাদী/এমএমবি
