রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি গ্যাস কেমিক্যাল প্রকল্পে পাইপলাইন পরীক্ষার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশি শ্রমিক আব্দুল কুদ্দুস (৩৫) মারা গেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের তার নিজ বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে সিনোপেক প্ল্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় কুদ্দুস ও মনিরুল দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে মনিরুল এখনও চিকিৎসাধীন আছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন কুদ্দুসের জীবন নানা কষ্টে কেটেছে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রবাসে যান তিনি। তবে রাশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
নিহত কুদ্দুসের বড় ভাই আব্দুল আলীম বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় জানতে পেরেছি আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া যেকোনো উপায়ে যেন আমার ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এদিকে কুদ্দুসের মৃত্যুর খবরে তার বৃদ্ধ মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার চরমোদিপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিস্ফোরণের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মস্কো শহরে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এজিসিসি নামের একটি প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টের সংযোগস্থলে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়। এতে বহু শ্রমিক আহত হন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল হক বলেন, গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এজিসিসি নামের একটি প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টের সংযোগস্থলে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপ ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজবাড়ী জেলার পাংশার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি।মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ সেলের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার আমরা তা করব।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
