উপকূলীয় শিল্পনগরী খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেই সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে রোগীদের।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নানা উদ্যোগ, ওষুধ ছিটানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও বাস্তবে কমছে না এডিস মশার উপদ্রব। সংক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে তৎপর রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।
সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৬০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসেবে খুলনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ১৪৬ জন (সরকারি ৮৭ ও বেসরকারি ৫৯) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৫ জন।
অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩২, নড়াইলে ১২, ঝিনাইদহে ৮, সাতক্ষীরায় ৭ (মেডিকেল কলেজসহ ১৩), বাগেরহাটে ৫, মাগুরায় ৫, মেহেরপুরে ৪ এবং কুষ্টিয়ায় ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯৫৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৭৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে খুলনায়ই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের একজন মারা গেছে। চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত গেল ৭ মাসে ৮ জনের মৃত্যু হয়। আর শুধু আগস্ট মাসেই মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। গেল ৮ মাসে আগস্টেই ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের। বিভাগের সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন এই বিশেষায়িত হাসপাতালে। এখানে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৩৮৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।
হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে চাপ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ডেঙ্গু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। রোগীর চাপ এতটাই বেশি, নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বারান্দা, মেঝে ও করিডোরে বেড পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক (শিশু) ওয়ার্ডে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত সেবা দিলেও বেড ও জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু সরকারি হাসপাতালই নয়, শয্যা মিলছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের জন্য হাসপাতালে ডেডিকেটেড ১৫টি বেড থাকলেও প্রায় চারগুণ ভর্তি রোগী রয়েছে। বর্তমানে ৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। সংকটকালীন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
খুলনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হোসেন আলী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চাপ অনেক বেশি। বর্তমানে হাসপাতালে সিঙ্গেল বেড দেওয়ার অবস্থা নেই। বর্তমানে ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. হিমেল ঘোষ বলেন, প্রতি বছর জুলাইয়ের পর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। বর্ষা এবং বর্ষার শেষে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার করে। ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। আগে এডিস মশা শুধু দিনে কামড়াতো। বর্তমানে রাত-দিন সমানভাবে কামড়াচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী বলেন, ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। পানি জমে থাকা স্থানে মশা জন্ম নেয়। এখন দেখা যাচ্ছে এডিস মশা শুধু স্বচ্ছ পানিতেই নয়, ময়লাযুক্ত পানিতেও বংশ বিস্তার করছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও মেডিকেল টিম গঠন করেছি। স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা এবং প্রতিরোধে যে ধরনের কাজ করা যায়, সবই করছি।
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিট বা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিটে অন্তত ৫টি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নরমাল স্যালাইন, খাওয়ার স্যালাইন, প্যারাসিটামলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কোনো সংকট নেই। ভর্তি রোগীদের জন্য মশারিরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে Dengue NS1 এবং Anti Dengue IgM কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে মহানগরে ডেঙ্গু হটস্পট (রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো জোন) চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্ড নং ১৭, ২২ ও ৩০-এ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিশেষ সচেতনতা ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বস্তি ও ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় উঠান বৈঠক ও বিশেষ সেশনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন সাব-সেন্টার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা
নগরীর এই সংকট মুহূর্তে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। খুলনার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত খুলনাকে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানায় মহানগর বিএনপি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ড্যাব, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো, ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া, রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং, ডায়াগনস্টিক সাপোর্ট, রক্ত সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির নেতারা।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রোগীদের চিকিৎসার কাজও বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এজন্য আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসক পরামর্শ, অবস্থা বুঝে ওষুধ সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক আপডেট রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরের প্রতিটি আক্রান্ত থানা এলাকায় কমপক্ষে একটি ৫০ শয্যার কেন্দ্রীয় সেবাকেন্দ্র এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী বড় ওয়ার্ডে ২০ শয্যা ও ছোট দুটি ওয়ার্ড মিলে সমমানের সেবাকেন্দ্র প্রস্তুতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেন্টারে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং সুবিধাসহ ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর টাঙানো থাকবে এবং স্বেচ্ছাসেবী দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
উদ্যোগগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে খুলনা মহানগর বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা ও তদারকি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল পর্ষদের চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ে কাজ করছেন ডা. রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে মাসুদ পারভেজ বাবু। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপিকে।
অন্যদিকে সোমবার আড়ংঘাটা থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ। জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তিনি বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। টিকাসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিশেধক ও পরিসেবার পরিধি বাড়াতে হবে। খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুরসহ জনবহুল এলাকাগুলো ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় এডিস মশার বিস্তার রোধে জমে থাকা পানি অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ওয়ার্ড পর্যায়ে সমাজকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে, নগরবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে। দুঃস্থ ও অসহায় রোগাক্রান্তদের পানীয় ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহেও যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।
কেসিসির রেড, ইয়েলো ও অরেঞ্জ জোন ভাগ
ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পুরো নগরীতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। সংক্রমণ ও লার্ভার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে কেসিসি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। এরমধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। রেড জোন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
নগর স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, রেডজোন হিসেবে ঘোষিত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০। অতিসংক্রামক ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১, ১৯, ২৬ ও ৩০ ওয়ার্ড। মৃদু আক্রান্ত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ২, ১০, ১২।
সিটি করপোরেশন তিনটি ওয়ার্ডে সেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে। রোগীদের ব্যয় কমাতে মঙ্গলবার থেকে কেসিসির তত্ত্বাবধানে ১৭, ২২ ও ৩০ নং ওয়ার্ডে ফ্রি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে নাপা ট্যাবলেট ও স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে।

কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শামিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় নাপা ট্যাবলেট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ছাড়া মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে কেসিসির সচিব, প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩টি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে লার্ভা ধ্বংসে ‘অ্যাবেট’ স্প্রে এবং বিকেলে ফগিং মেশিন দিয়ে এডিস মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করা হচ্ছে।
এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থানে গেছে সিটি কর্পোরেশন। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালনায় নগরীর বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন ও প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শনে কোথাও জমা পানি বা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলামু মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে তিন মাস পূর্ব থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছি। কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে আশানুরূপ ফল আসছে না।
কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে নামানো হয়েছে। তবে শুধু কেসিসির ওষুধ ছিটানো দিয়ে এই দুর্যোগ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। টব, এসি বা ছাদে যেন জমা পানি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রেখে লার্ভামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে হলে শুধু সড়ক ও ড্রেন নয়, প্রত্যেকের বাড়ি-ঘরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঝোপঝাড় ও বদ্ধ পানি অপসারণ করতে হবে।
এএমকে
