জামায়াত ও এনসিপি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা ও জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা চক্রান্তের অংশ। তারা আওয়ামী লীগকে ফেরানোর অপচেষ্টা শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর—জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট তারা লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে। শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে তারা ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবে। ৯৬-তে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত রাজপথে নেমে বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য অপচেষ্টা করেছিল। ঠিক আমার কাছে মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবে ঘোষণা দিলো, আর এদিকে ওই ঘোষণার পরপরই লংমার্চের ঘোষণা জামায়াত এবং এনসিপি দিলো। তার মানে কি এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার? না, পরিকল্পিতভাবে ৯৬-এর মতো রাষ্ট্রকে আরেকবার ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত মিলে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট যে বাংলাদেশ হবে না, তা বলা যায় না। এই জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দল, যা নিজেদের স্বার্থে যেকোনো দলের সাথে হাত মেলাতে পারে। আমার কাছে মনে হয় জামায়াত-এনসিপির যে লংমার্চ, তা মূলত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার লংমার্চ।
রাশেদ খাঁন বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যেসব দলীয় নেতাকর্মী ভুল করে দলের বিরুদ্ধে ভোট করেছিল, তারা ভুল স্বীকার করে ফিরতে চাইলে সেটি দলীয় হাইকমান্ড বিবেচনা করবে। তবে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে ভোট করেছিল, তাদের ব্যাপারে দল এখনো কোনো চিন্তাভাবনা করেনি।
জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্রাট হোসেন/আরএআর
