বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্থাপিত মান বজায় রেখে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে সিলেট জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এই দলটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার নাম ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যেই সময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির টিকবে কিনা, এটা আদৌ এই রাষ্ট্র হিসেবে এটার কোনো টিকে থাকার সক্ষমতা আছে কিনা, সেটি নিয়ে বিশ্ব জনগণ জনমতের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। সেই সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই যার ওপরের দায়িত্ব ন্যস্ত হয়, তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি হাল ধরেছিলেন এবং অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে এই প্রায় অবমূল্যায়িত দেশ, যেটিকে বিশ্বের তাবৎ বড় বড় শক্তি যে এটি একটা কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সামর্থ্য যার নাই এইভাবে অবমূল্যায়ন করে দিয়েছিল। সেই রাষ্ট্রটিকে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, বিশ্ব দরবারে সম্মানের সম্মান অর্জন করেছিলেন, তার স্বল্প সময়ের পররাষ্ট্রনীতির অর্জন এটিই প্রমাণ করে যে বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রনেতাদের কাছে রাষ্ট্রের কাছে তিনি কত উঁচু মর্যাদার আসনে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ৭৪ সনে বাংলাদেশের ইতিহাসের একমাত্র দুর্ভিক্ষ হয়, তার সময়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। চাল রপ্তানি করে, এমন কোনো খাত নাই, শিল্প, কৃষি থেকে ধরে এমন কোনো খাত নাই যেটাতে তার এই স্বল্প সময়ে তার ছোঁয়া লাগেনি এবং যেটি উন্নয়নের ধারায় রূপান্তরিত হয়নি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমি যখন আজকে বাণিজ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আল্লাহর ওপর মেহেরবানিতে, আমার সামনে যে বোর্ডটা লাগানো, তার মধ্যে অনেক দিকপালের নাম আছে। তার মধ্যে একজন হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তিনিও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন, প্রায় ২০ বছর। তো যখন এই নামটা দেখি, কাঁধ খাড়া হয়ে যায়, মনে হয় যে এটার উপরে তো টনটন ওজন। যে উঁচু মান তিনি স্থাপন করে গিয়েছিলেন, তার সৈনিক হিসেবে, তার অনুসারী হিসেবে, সেই মান বজায় রেখে মানুষের প্রত্যাশার মূল্যায়ন করতে হবে। এটি অনেক বড় একটি ওজন কাঁধের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, শুধু এটুকু বলি, আল্লাহর মেহেরবানিতে সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এবং আমাদের মাতৃসম নেত্রী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম দুইজন মানুষের একজন, তাদেরই জ্যেষ্ঠ সন্তান, আমাদের নেতা তারেক রহমান, দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে যেভাবে তার পিতা এই দেশে একটি বড় ছেলের ছাতি দিয়েছিলেন, যেভাবে তার মাতা এই দেশের একটি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন এবং অবনতির ধারাকে সমূলে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেও যে ফ্যাসিবাদের যে চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সামনে মনে হয় একেকটা বিশাল পাহাড়ের মতো। জ্বালানিসহ আইন-শৃঙ্খলাসহ, ইনশাল্লাহ তার প্রত্যেকটিকে আমরা মোকাবিলা করব এবং এই ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাব, ইনশাল্লাহ।
সবশেষে তিনি বলেন, আমরা আপনারা সবাই দোয়া করবেন যে বিশাল বিরাট প্রত্যাশা নিয়ে এই দেশের মানুষ আমাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন সেই প্রত্যাশার হক যেন আমরা আদায় করতে পারি।
মাসুদ আহমদ রনি/এসএইচএ
