নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্যবহারযোগ্য একটি ভবন নির্মাণের মাত্র ৩ বছর পর ভেঙে ফেলার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আক্তার, সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব হোসেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প’ (ইউজিডিপি) এর আওতায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি লাইব্রেরি ও বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করা হয়। জাপান সরকারের ঋণ সহায়তায় নির্মিত হওয়ায় স্থাপনাটি সরকারি সম্পত্তি এবং উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ভেঙে ফেলা ভবনটির জায়গায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ব্যবহারযোগ্য একটি সরকারি ভবন নির্মাণের মাত্র ৩ বছরের মাথায় ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি কোনো টেন্ডার ছাড়াই ভবনটি এবং পাশের একটি টিনের ঘর ভেঙে সব মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন বা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়নি বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মিলন মিয়া বলেন, ভবনটি নির্মাণ শেষে আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি। নিয়ম অনুযায়ী নিলাম কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ভবন ভাঙা বা বিক্রির বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, আমাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আশিকুর রহমান/এমএমবি
