উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। সাগরে ছোট-বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পটুয়াখালীতে কখনো মাঝারি, আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর—পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা-কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।যা এখনও চলমান রয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহন সংকটও দেখা দিয়েছে।
পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিয়া বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় স্কুলে যাওয়ার গাড়ি পাচ্ছি না। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বৃষ্টিতে খুবই ভোগান্তিতে পড়েছি।”
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর—পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা—কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। মঙ্গলবারও সেই সতর্ক সংকেত চলমান রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা উপকূল ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর নদ-নদীগুলোর পানির উচ্চতাও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যেও সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অনেক জেলে নৌকা ও ট্রলার নিরাপদে নোঙর করে তীরে অবস্থান করছেন।
মহীপুর এলাকার জেলে আলমগীর বলেন, “সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টি। আর শুনছি ৩ নম্বর সংকেত চলছে। তাই এ আবহাওয়ায় আজ মাছ ধরতে যাইনি।”
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “বর্তমানেও সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকাল থেকে উপকূলে বৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যে সমুদ্রগামী জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে।”
আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সমুদ্রগামী জেলেদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এসএমডব্লিউ
