নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ঐশী পোদ্দার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, পারিবারিক কলহের জেরে ঝর্ণা (৩০) নামে আরেক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া ও সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা এলাকায় পৃথক এ ঘটনা দুটি ঘটে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত ঐশী পোদ্দার গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি এলাকার শান্ত কুমার রায়ের স্ত্রী এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শাহাপাড়া এলাকার শংকর পোদ্দারের মেয়ে।
ঐশীর বাবা শংকর পোদ্দার অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে ১২ লাখ টাকা ও ১২ ভরি স্বর্ণালংকার দিয়ে শান্ত কুমার রায়ের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন তিনি। বিয়ের পর থেকেই আরও যৌতুকের দাবিতে শান্ত, তার বাবা শিবু চন্দ্র রায় ও মা লক্ষ্মী রানী রায় ঐশীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
তিনি বলেন, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রায় দেড় মাস আগে শান্তকে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মঙ্গলবার রাতে ঐশীকে শ্বাসরোধ ও দেয়ালে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাশের এলাকায় থাকা ঐশীর এক মামা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফোন করে পরিবারকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, একই রাতে সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা এলাকায় ঝর্ণা (৩০) নামে আরেক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার আব্দুল আলীর মেয়ে ও নাদিমের স্ত্রী।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, পৃথক দুটি ঘটনায় দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঐশীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মো. মীমরাজ হোসেন/এমএমবি
