নাটোরের গুরুদাসপুরে স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (২০) গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী মো. ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন তালুকদার টগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া মামলায় তথ্য ও আলামত গোপনের দায়ে নিহতের শ্বশুর ফজলুর রহমান ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলার পিপলা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বামনবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল মণ্ডলের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরিয়মের পরিবারের সদস্যরা তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে শোবার ঘরে মরিয়মের নিথর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার গলার দুই পাশে আঙুলের স্পষ্ট দাগও দেখতে পান স্বজনরা।
পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফরহাদ হোসেন গলা টিপে মরিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমিরুল মণ্ডল বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় ৩ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আশিকুর রহমান/এমএমবি
