বিজ্ঞাপন

চোরের দেওয়া তথ্যেই মিলল ৭ ভরি স্বর্ণ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

চোরের দেওয়া তথ্যেই মিলল ৭ ভরি স্বর্ণ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

অসুস্থ মাকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন মিজান শেখ। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাতের আঁধারে দরজার তালা ভেঙে ঢোকে চোর চক্র। ভেঙে ফেলে ট্রাঙ্কের তালাও। নিয়ে যায় নগদ টাকা ও প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার। সেই চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণ। চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পালং মডেল থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার বিল দেওয়ানিয়া এলাকার আতাহার মাদবর (৩৬), পালং মডেল থানার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকার সুমন সরদার (৩০), মো. রুবেল বেপারী (৩০), মো. সাগর খলিফা (২৯) ও শিপলু খান (৪৫)। এছাড়াও চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে সুমন পাল (৩২) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট বিকেলে অসুস্থ মাকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মিজান শেখ। পরদিন ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে চোরচক্রের সদস্যরা গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় তার বসতঘরের দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে। পরে তারা একটি ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং গলার হার, চেইন, কানের দুল, হাতের বালা ও চুড়িসহ প্রায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট থানায় মামলা করেন মিজান শেখ। এরপর মামলার তদন্তে নামে পালং মডেল থানা পুলিশের একটি দল। 

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার পর ২৮ আগস্ট শৌলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে শৌলপাড়া বাজারের একটি স্বর্ণের দোকান ও সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সুমন পালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গঙ্গানগর স্বর্ণকার পট্টির ‘মা জুয়েলার্স’ ও তার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে- একটি বড় চেইন, তিনটি মাঝারি চেইন, ছোট-বড় সাতটি আংটি, সাত জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট, একটি গলার নেকলেস, একটি চেইনের লকেট এবং ছোট-বড় তিনটি গলানো স্বর্ণের টুকরা।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক দোকানদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং চুরি হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নয়ন দাস/আরএআর

বিজ্ঞাপন