বিজ্ঞাপন

ফেরির সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারডুবি

২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ যুবকের

২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ যুবকের

খুলনার ভৈরব নদে ফেরি সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলার ডুবির ঘটনায় রাকিব খান (২৭) নামে এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাকে উদ্ধারে নদীতে অভিযান চালিয়েছে নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে গেল ২৪ ঘণ্টায়ও রাকিবের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। 

নিখোঁজ রাকিব রূপসা উপজেলার সেনের বাজার এলাকার হাজী গ্রামের মৃত. বাকের খানের ছেলে।  

এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভৈরব নদীতে ফেরি ও ট্রলারের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রলারটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা সব যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও রাকিব নামে ওই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার পরিবার ও বন্ধুদের দাবি। এরপর থেকে তার সন্ধানে অভিযান শুরু হয়।  

নিখোঁজ রাকিবের মামাতো ভাই আবির বলেন, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হয়। সে জেলখানা ঘাট এলাকায় আসার পর তার আর খোঁজ মেলেনি। তার মোবাইলও বন্ধ। একই সময়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে ট্রলার ডুবির ঘটনায় সে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

নিখোঁজ রাকিবের বন্ধু আকাশ বলেন, রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাইওনিয়ার কলেজ এলাকায় একসঙ্গে ছিলাম। রাকিব জেলখানা ঘাটে আসে। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় সে বাড়িতে ফেরেনি। পরে মিডিয়াতে দেখলাম জেলখানা ঘাটে ট্রলার ডুবেছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই ট্রলারে রাকিবও ছিল। রাকিব সাঁতার জানতো না।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের লিডার সাইদুল ইসলাম বলেন, ফেরি এবং যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। আমরা নড়াইল থেকে আসছিলাম। রাতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় আমি এবং বেশ কয়েকটি ট্রলারের মাঝি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করি। সবাইকে জীবিত উদ্ধার করি। রাত পর্যন্ত কেউ নিখোঁজ ছিল না। তবে সকালে অফিস থেকে জানানো হয়, একজন নিখোঁজ রয়েছে। তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা নিশ্চিত করেছে রাকিব নামে একজন নিখোঁজ। সকাল ৯টা থেকে আমরা উদ্ধার অভিযান শুরু করি। বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার তারা ট্রলার নিয়ে রাকিবের সন্ধানে বের হবে।

নৌপুলিশ রূপসা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আমরা রাকিবের সন্ধানে নদীতে ছিলাম। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়, চলে রাত অবধি। এ অভিযানে নৌপুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়। স্থানীয় ডুবুরি দলের সহায়তায় দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, সকালে নিখোঁজ রাকিবের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে ডুবরি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ডুবে যাওয়া ট্রলারটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

মোহাম্মদ মিলন/এএমকে