বিজ্ঞাপন

সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন আমি ক্লিন করবো: কৃষিমন্ত্রী

সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন আমি ক্লিন করবো: কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে নোংরা টয়লেট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মাদ আমিন উর রশিদ। 

এ সময় অপরিচ্ছন্ন টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে মন্ত্রী বলেন, স্যুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করবো। যদি আমি পারি তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব, আপনি কেন পারলেন না।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতার খবর পেয়ে সেখানে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

৫০ সেকেন্ডের ভাইরাল ওই ভিডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, বাথরুমগুলোর জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে দেখবো, বাথরুম আছে ছয়টা, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত বাথরুমটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন।

এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাউ।

শুধু বাথরুমের অপরিচ্ছন্নতা নয়, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পাখাগুলোর নাজুক অবস্থাও মন্ত্রীর নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা পাখাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লার স্থানীয় এক সাংবাদিকের মা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন। পরে ওই সাংবাদিক হাসপাতালের নানান অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালক মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন করে জানিয়ে হাসপাতালটি পরিদর্শনের অনুরোধ জানান। মন্ত্রী তখন ওই সাংবাদিককে শিগগিরই হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং আহ্বান করা হয়। ওই মিটিংয়ে কমিটির সব সদস্যের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্বের অগ্রগতির বিষয়সহ, হাসপাতালের উন্নয়নের লক্ষে কিছু পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা হয়। মিটিং শেষে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে হাসপাতালে অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি দেখে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের ওয়ার্ড আছে ৪৭টি। সে জায়গায় ক্লিনার আছে ১১ জন। ৬৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীও নিয়োজিত আছেন। হাসপাতালের একেকটি ওয়ার্ডে বেডের তুলনায় তিনগুণ রোগী ভর্তি হয়। তাদের সঙ্গে তাদের ২-৩ করে স্বজনও হাসপাতালে অবস্থান করেন। সবাইকে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়। আমি আমার কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছি যেন টয়লেটগুলো সুন্দরভাবে পরিষ্কার করা হয়।

আরিফ আজগর/এএমকে

বিজ্ঞাপন